আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর আসন আকাশ ও পৃথিবীময় পরিব্যাপ্ত, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না, তিনি অতি মহান, সর্বশ্রেষ্ঠ।
Related Question
View Allফাতিহা অর্থ যা দিয়ে খোলা হয় বা শুরু করা হয়। পরিপূর্ণ সূরা হিসেবে এ সূরাই প্রথম নাযিল হয়েছে। সূরা ফাতিহা সমগ্র কুরআনের সার-সংক্ষেপ। সহীহ হাদিসে এ সূরাকে 'উম্মুল কুরআন, 'উম্মুল কিতাব' ও কুরআনের আযীম বলে অভিহিত করা হয়েছে। এটি মাক্কী সূরা। মোট ৭টি আয়াত আছে।
অর্থ: ১. সকল প্রশংসা শুধু আল্লাহর জন্য যিনি সারা জাহানের প্রতিপালক, ২. যিনি মেহেরবান ও দয়াময়, ৩. বিচার দিনের মালিক, ৪. আমরা (একমাত্র) তোমারই ইবাদত করি আর (শুধু) তোমারই নিকট সাহায্য চাই, ৫. আমাদেরকে সোজা-সঠিক পথ দেখাও (পরিচালিত কর), ৬. ঐ সব লোকের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছো। ৭. তাদের পথ নয় যাদের ওপর আপনার ক্রোধ নিপতিত এবং পথভ্রষ্ট্র।
মূল শিক্ষা: সূরা ফাতিহা শুধু একটি দোয়া নয়- শ্রেষ্ঠ দোয়া। মানুষের সব চাওয়ার বড় চাওয়া-ই এখানে চাওয়া হয়েছে। সিরাতুল মুস্তাকীমই মানুষের পার্থিব লক্ষ্যবিন্দু। এ পথে চলা মানে আল্লাহর নিয়ামতে ডুবে থাকা এবং আল্লাহর গযব ও গুমরাহী থেকে বেঁচে থাকা। কুরআন ও হাদিসে যত দোয়া শেখানো হয়েছে সবই সূরা ফাতিহার ব্যাখ্যা। এটাই সূরা ফাতিহার মূল শিক্ষা।
সহীহুন শব্দটি সাকিমুন এর বিপরীত। সাকিমুন অর্থ দুর্বল। সুতরাং সাহীহুন অর্থ সবল। এ কারণেই ইংরেজি অভিধানে সহীহ শব্দের অর্থ করা হয়েছে Health। মুজমাউল বাইবাইন নামক অভিধানে বলা হয়েছে সহীহ মানে এক, এটা বাতিলের বিপরীত। অতএব সহীহ হাদিস মানে বিশুদ্ধ হাদিস, সবল হাদিস। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গুণাবলি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ কর্তৃক বর্ণনাকৃত এবং যার পূর্বাপর বর্ণনা ধারা অক্ষুণ্ণ আছে। হাদিস শিক্ষাদান এবং গ্রহণ পদ্ধতি সঠিক এবং বর্ণনাকারী ব্যক্তিগত জীবনে সকল দিক বিবেচনায় বিশ্বস্ত হলে তাকে সহীহ হাদিস বলে।
কুরআন ও হাদীসে কুদসীর মধ্যে পার্থক্য :
ক. কুরআনের ভাব এবং ভাষা স্বয়ং আল্লাহর। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসীর ভাব ও বক্তব্য সরাসরি আল্লাহ তা'আলার আর ভাষা রসুলুল্লাহ (স) কর্তৃক প্রদত্ত।
খ. কুরআন জিব্রাইল (আ) কর্তৃক নাযিলকৃত। অপরদিকে হাদিসে কুদসী ইলহাম বা স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত।
গ. কুরআন পাঠ করা সালাত আদায়ের সময় ফরয। পক্ষান্তরে সালাত আদায়ের সময় হাদিসে কুদসী পাঠ করা যাবে না।
ঘ. কুরআনের কোনো বিষয়কে অস্বীকার করলে মানুষ কাফির হয়ে যায়। অপরদিকে হাদিসে কুদসী অস্বীকার করলে কাফির হয় না।
ঙ. পবিত্র কুরআন আল্লাহর প্রত্যক্ষ বাণী। পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসী আল্লাহর পরোক্ষ বাণী।
তাকওয়া মানবজীবনের সর্বোত্তম গুণ। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মানুষকে যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। ফলে মানব জীবন হয় পূত-পবিত্র, সুশৃঙ্খল, পরিমার্জিত এবং পরিশীলিত। তাকওয়ার মাধ্যমেই কোনো ব্যক্তি পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারে। সুতরাং ইসলামী জীবন দর্শনে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক তাকওয়া।
তাকওয়ার সংজ্ঞা: 'তাকওয়া' আরবি শব্দ। আভিধানিক অর্থ আল্লাহ ভীতি, পরহেযগারী, আত্মশুদ্ধি, বিরত থাকা ইত্যাদি।
ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় অন্যায়- অনাচার, পাপাচার বর্জন করে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশমতো জীবনযাপন করাকে তাকওয়া বলে।
আল্লাহকে ভয় করা মানে তাঁর নির্দেশ মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা। তিনি আমাদের ভালো-মন্দ বোঝার ও কাজ করার ক্ষমতা দান করেছেন। তিনি সবকিছু। দেখেন এবং জানেন। শেষ বিচারের দিন তার কাছে সব কাজের হিসাব দিতে হবে। মানবমনের এই অনুভূতিই তাকওয়া।
সাইয়েদ কুতুব শহীদের ভাষায়, ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক কর্মকাণ্ডে ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ সব ধরনের কথাবার্তা, কাজকর্ম ও চিন্তাচেতনা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শ মেনে চলাকে তাকওয়া বলে।
তাকওয়া অর্জনে রোজার গুরুত্ব: কুরআন ও হাদীসের আলোকে তাকওয়া অর্জনে রোজার গুরুত্ব নিম্নে আলোচনা করা হলো:
সমাজে তাকওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে: রোজার মাধ্যমে মানুষ তাকওয়া বা পরহেজগারি হাসেল করতে সক্ষম হয় এবং রোজার মাসে প্রতিটি লোক গুনাহ ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে। ফলে রোজার পূর্ণ এক মাস সমাজে বিরাজ করে তাকওয়ার পবিত্র পরিবেশ। কুরআন পাকে এরশাদ হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।” মহানবী (স) বলেন, 'রমজান মাসে অপবিত্র শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়।'
সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়: রোজা মানুষকে সংযমী হতে শিক্ষা দেয়। কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা ইত্যাদি রিপুর তাড়নায় মানুষ বিপথগামী হয়। রোজা মানুষের এ সকল কুপ্রবৃত্তি দমন করে। এ কারণেই মহানবী (স) বলেন, 'রোজা ঢালস্বরূপ'।
রোজা মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়, কুপ্রবৃত্তিকে ধুয়ে মুছে আত্মাকে দহন করে, সকল গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে সমাজ জীবনে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতিশীলতা সৃষ্টি করে, ঐক্য ও সাম্য প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা যোগায়। সর্বোপরি একজন মুমিন মুসলমান রমজানের একটি মাসে সকল প্রকার ইবাদতের কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে যাবতীয় সৎগুণাবলি অর্জন করে বাকি এগারোটি মাসের জন্য নিজেকে উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তোলে।
মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে নারী ও পুরুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষ উভয়েই সমমর্যাদার অধিকারী। কোথাও শুধু পুরুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয়নি। কিন্তু ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবীতে নারী জাতিকে অত্যন্ত অবজ্ঞার চোখে দেখা হতো। তাদের জীবন ও সম্ভ্রমের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। তাদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা নারীদের শুধু ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদেরকে দাসী হিসেবে গণ্য করেছে। একমাত্র ইসলাম ধর্মই নারীকে তার যথাযথ স্থানে সমাসীন করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ইসলামে নারীর মর্যাদা অনেক। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
ইসলামে নারীর মর্যাদা: ইসলামে নারীর বহুবিধ অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেমন-
ক. মাতা হিসেবে: মাতা হিসেবে একজন নারীর মর্যাদা সবার ঊর্ধ্বে। আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পর পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারিণী হলেন মা। একজন মায়ের মর্যাদা সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, 'আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেন এবং দু'বছর পর্যন্ত স্তন্য পান করান।' এছাড়াও মাতার মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে রসুলের একাধিক হাদিস বিদ্যমান। যথা- 'জননীর পদতলে সন্তানের বেহেশত।' এছাড়াও তিনি বলেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পরে সবচেয়ে অধিক সম্মান, মর্যাদা ও সদ্ব্যবহার পাবার যোগ্য হলেন মাতা।' এ ছাড়াও রসুল (স) জনৈক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে পর পর তিন বার বলেন, 'তোমার নিকট অধিক হকদার হলেন তোমার মাতা।' রসুল (স) তাঁর দুধমাতা হালিমার সাথে উত্তম ব্যবহার করতেন। একবার তিনি আসলে রসুল (স) তাঁর নিজের গায়ের চাদর বিছিয়ে তাঁকে বসতে দেন। এভাবেই ইসলাম মাতা হিসেবে একজন নারীকে পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদার আসনে বসিয়েছে।
খ. স্ত্রী হিসেবে: স্ত্রী হিসেবে একজন নারীর মর্যাদা অতি উচ্চে। স্ত্রীকে স্বামীর সমমর্যাদা প্রদান করেছে ইসলাম। স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ করা, তাদের ভরণপোষণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, স্ত্রীদের ওপর স্বামীর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমন স্বামীদের প্রতি স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে। রসুল (স) তাঁর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণে স্ত্রীদের অধিকার নিশ্চিত করে বলেন, 'তোমরা স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে।'
গ. কন্যা হিসেবে: কন্যা হিসেবে একজন নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছে একমাত্র ইসলাম ধর্মই। ইসলামের পূর্বে কন্যা সন্তানদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। ইসলাম এই প্রথা বাতিল করেছে। মহানবী (স) বলেন, 'যার কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, কিন্তু তাকে জীবন্ত কবর দেয় না, লাঞ্ছিত করে না এবং পুত্র সন্তানকে তার থেকে বেশি ভালোবাসে না, আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন।' রসুল (স) তাঁর কন্যা ফাতিমাকে জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসতেন। তিনি কোথাও গেলে সবার শেষে তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং ফিরে এসে সর্বপ্রথম তাঁর সাথেই দেখা করতেন। এ থেকে একজন কন্যা হিসেবে নারীর মর্যাদা কতটুকু তা অনুধাবন করা যায়।
ঘ. দাসী হিসেবে: দাসী হিসেবে একজন নারীর যে অধিকার প্রাপ্য তা নিশ্চিত করেছে একমাত্র ইসলাম। রসুল (স) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেন, 'তোমরা তোমাদের দাস-দাসীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো, তোমরা যা খাবে, তোমাদের দাসদাসীদেরকেও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও অনুরূপ পরাবে।'
ঙ. সমঅধিকার প্রদান: ইসলাম নারীকে পুরুষের সমান অধিকার প্রদান করেছে। তাদেরকে কোনোভাবে অবহেলিত করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। পবিত্র কুরআনের ঘোষণা- 'হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাকো এবং সেখান থেকে তোমরা দুজনে ইচ্ছামত পানাহার কর।' এই আয়াতে নারী ও পুরুষ উভয়কেই সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।
চ. শিক্ষা ক্ষেত্রে: রসুল (স) বলেন- 'নারী-পুরুষ সকল মুসলমানের ওপর বিদ্যার্জন করা ফরজ।' এখানে পুরুষের সাথে সাথে নারীদেরকেও শিক্ষা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। রসুল (স) নিজ পত্নীদের ইসলামের অনেক বিধি-বিধান শিক্ষা দিয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁরা সাহাবাদের শিক্ষা দিয়েছেন। এ থেকে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদা প্রমাণিত।
ছ. ব্যক্তিস্বাধীনতা : ইসলাম-পূর্ব সময়ে নারীদের কোনো ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। তারা ছিল পরাধীন, অন্যের দাসী। কিন্তু ইসলাম তাঁদের ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। একজন মাতা, একজন স্ত্রী, একজন কন্যা হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদাদানের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে।
জ. অর্থনৈতিক মুক্তি: প্রাক-ইসলাম যুগে নারীর কোনো আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। তারা কোনো সম্পদের মালিক হতে পারত না, কিন্তু ইসলাম তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। নারীরা তাদের মৃত পিতা-মাতা এবং স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পদের অংশীদার হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'পুরুষের জন্য অংশ রয়েছে যা তার পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়রা রেখে গেছেন এবং নারীর জন্যও অংশ রয়েছে যা তার পিতামাতা ও নিকট আত্মীয়রা রেখে গেছেন।'
এছাড়া নারীদের মোহরানা প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝ. রাজনৈতিক অধিকার: একজন নারীও রাষ্ট্রের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তারা রাজনৈতিক অধিকার তথা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। ইচ্ছামতো নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
ঞ. ধর্মীয় স্বাধীনতা : ইসলাম নারী-পুরুষ সকলের জন্যই ধর্মীয় বিধানের ব্যবস্থা করেছে। ইসলামের সকল অনুশাসন নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য। তারা স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে পারবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী, 'পুরুষ বা স্ত্রী যেই হোক, ঈমান আনার মাধ্যমে যে সৎ কাজ করবে সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।' এছাড়াও পবিত্র কুরআন ও হাদিসে নারীদেরকে পুরুষদের সমান ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করা হয়েছে।
ট. বিবাহের ক্ষেত্রে: ইসলাম নারীদের বিবাহের ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বাধীনতা প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে তাদেরকে কোনোভাবেই জোরজবরদস্তি করা যাবে না। তাদের ইচ্ছা ছাড়া বিবাহ শুদ্ধ হবে না। ইজাব-কবুলে তাদের মতামতের মূল্য দেয়া হয়েছে।
ঠ. সামরিক ক্ষেত্রে: ইসলাম সামরিক ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। নারীরা যুদ্ধের ময়দানে অংশগ্রহণ করতে পারবে। নারীরা যুদ্ধে পুরুষদের সেবা ও চিকিৎসার জন্য যেতে পারবে। ইসলামের অনেক যুদ্ধে মুসলিম নারীরা অংশগ্রহণ করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
ড. আইনগত মর্যাদা: আইনের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ সমান। ইসলামে উভয়ের জন্যই ভালো কাজের পুরস্কারের ব্যবস্থা এবং অন্যায় কাজের জন্য শাস্তি রয়েছে। নারীদেরকে এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিশেষে এ কথাই প্রমাণিত হয়, চির অবহেলিত নারী সমাজকে ইসলামই প্রথম যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছে। তাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করেছে। তাদেরকে দিয়েছে সার্বিক মুক্তি। বন্দি-শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে। এককথায় ইসলাম নারীদেরকে যে অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে, অন্য কোনো ধর্মে তা দেওয়া হয়নি।
হাদিসটিতে নামাজের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। রসুল (স) ইরশাদ করেন, 'নামাজ হলো মুমিনের জন্য মিরাজ স্বরূপ'। শবে মিরাজে যখন হুজুর (স) আল্লাহ তায়ালার দরবারে হাজির হয়েছিলেন, তখন আল্লাহর বিশেষ দানস্বরূপই তিনি নিয়ে আসলেন নামাজের এ বিধান। তাই নামাজ শবে মিরাজের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারণিক এবং আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ও তার নৈকট্য লাভের এক অপূর্ব সুযোগ। এ যেন বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বিশ্বমানবের জন্য শবে মিরাজের উপঢৌকন, যা বহন করে এনেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স)। যারা নামাজের প্রতি অবহেলা, উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করে তারা যেন বিশ্ব স্রষ্টার উপঢৌকনের প্রতিই অবহেলা, উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করে।
নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর অধিকতর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ হয়। এ সম্পর্কে হুজুর (স) ইরশাদ করেন-
أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَاكْثَرُوا الدُّعاء
অর্থাৎ, 'বান্দা যখন সেজদায় রত থাকে তখনই তার প্রতিপালকের অধিকতর নিকটবর্তী হয়। অতএব সেজদায় রত অবস্থায় তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করো।'
মূলত নামাজের মাধ্যমে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্র সাথে কথোপকথন করে। এজন্যই বলা হয়েছে- নামাজ এমনভাবে পড়, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো। আর যদি তা না হয় তবে এই খেয়াল মনে আনো যে, আমার আল্লাহ তো আমাকে দেখছে।
সুতরাং আমাদের উচিত একাগ্রতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত নামাজকে আদায় করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!